বুধবার ০৬ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৩শে বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১৯ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি
LIVE
Printed on: May 06, 2026
April 21, 2026
আন্তর্জাতিক
আন্তর্জাতিক

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে ভারতে সার উৎপাদন কমেছে প্রায় এক-চতুর্থাংশ

Published: April 21, 2026 at 04:58 PM
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে ভারতে সার উৎপাদন কমেছে প্রায় এক-চতুর্থাংশ

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে ভারতে সার উৎপাদন মার্চ মাসে প্রায় এক-চতুর্থাংশ কমেছে। সরকারি তথ্য এ চিত্র তুলে ধরেছে।সার উৎপাদনে ব্যবহৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি ব্যাহত হওয়ায়, উৎপাদনে এই পতন ঘটেছে। নয়াদিল্লি থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। ইউরিয়া উৎপাদনে প্রাকৃতিক গ্যাস অপরিহার্য। বিশ্বব্যাপী জ্বালানির মূল্যের ওঠানামা এই খাতের ওপর প্রভাব ফেলে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পর, হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ করে দেয় তেহরান। এই জলপথ দিয়েই জ্বালানি ও সার-সংশ্লিষ্ট কাঁচামালের বড় অংশ পরিবাহিত হয়। বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সার সাধারণত এই পথ দিয়ে যায়। ফলে এই বিঘ্ন খাদ্য উৎপাদনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে— এমন সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে একাধিকবার। ভারতে অধিকাংশ খামার ছোট ও তুলনামূলক কম উৎপাদনশীল। তবু বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল এই দেশে কৃষিখাতে ৪৫ শতাংশের বেশি মানুষ কর্মরত। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সোমবার রাতে এক বিবৃতিতে জানায়, ‘২০২৫ সালের মার্চের তুলনায় ২০২৬ সালের মার্চে সার উৎপাদন ২৪ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে।’ এর আগে উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে বাড়ছিল। ফেব্রুয়ারিতে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ, জানুয়ারিতে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ ও ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ৪ দশমিক ১ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। তবে ভারতের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশে ‘পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে’ এবং ‘বিভিন্ন দেশ থেকে সার সংগ্রহে বৈচিত্র্য আনা হচ্ছে।’ ভারতে বর্ষার আগে খরিফ মৌসুমে অর্থাৎ জুন-জুলাইয়ে বর্ষা নির্ভর ফসর চাষের সময়, সার চাহিদা সর্বোচ্চ থাকে। এরপর অক্টোবর-নভেম্বরে রবি মৌসুমে শীতকালীন ফসলের বপনের সময় আবার চাহিদা বাড়ে। এপ্রিলের শুরুতে কৃষকদের সুরক্ষায় সার ভর্তুকি ১১ শতাংশ বাড়িয়েছে সরকার। ইউরিয়া সরবরাহের জন্য ভারত আমদানির ওপর নির্ভরশীল। পাশাপাশি রক ফসফেট, ফসফরিক এসিড ও পটাশের মতো কাঁচামালও আমদানি করতে হয়, যা সার উৎপাদনের মূল উপাদান। গত মাসে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে সার সরবরাহে বিঘ্ন, বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তার জন্য দ্বিমুখী হুমকি তৈরি করছে।